জাতীয় পার্টির ভোট কমার কারণগুলো: সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ News

জাতীয় পার্টির ভোট কমার কারণগুলো: সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে সামরিক শাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদের পতনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে সেটি নিয়ে অনেকের সংশয় ছিল।

১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কাছে, জাতীয় পার্টির গুরুত্ব কমেনি।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করলেও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন তারা পায়নি।

ফলে এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ।

গত প্রায় ১৫ বছর ধরে নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোট গঠনের পর নির্বাচনে অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠে জাতীয় পার্টি।

গত কয়েকটি নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে দরকষাকষিও করেছে অনেক।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, যেসব আসনে কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, সেসব জায়গায় জাতীয় পার্টির গুরুত্ব রয়েছে।


সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি
নির্বাচন প্রাপ্ত আসন প্রাপ্ত ভোট
১৯৯১ সাল ৩৫- ১১.৭৯%
১৯৯৬ সাল ৩২- ১৬.৩৯%
২০০১ সাল ১৪- ৭.১৮%
২০০৮ সাল ২৭ - ৬.৯৭%


জাতীয় পার্টির ভোট কমছে কেন?

জেনারেল এরশাদের পতনের পর, বিশেষ করে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে, জাতীয় পার্টি যত ভোট পেয়েছিল সেটি পরবর্তীতে ক্রমাগত কমেছে।

জাতীয় পার্টির ভোট বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের সাথে বিএনপির ভোট হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফলে ১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপির যত ভোট বেড়েছে, জাতীয় পার্টির সমর্থন তত কমেছে বলে মনে করেন মহিউদ্দিন আহমদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠীর ভেতর থেকেই জাতীয় পার্টির সমর্থন গড়ে উঠেছিল।

যেসব জায়গায় জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান ছিল সেসব জায়গা ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভালো ফলাফল করায় জাতীয় পার্টির ভোট কমে যায়। এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আসনগুলোতে বিএনপির প্রাপ্ত ভোট বেড়েছে।

তাছাড়া উত্তরাঞ্চলের আওয়ামী লীগেরও একটি শক্ত অবস্থান গড়ে উঠে। যদিও জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল কিন্তু উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি আসনে জাতীয় পার্টির এবং আওয়ামী লীগ আলাদাভাবে নির্বাচন করে। মোট প্রাপ্ত ব্যাপকভাবে কমে যাবার পেছনে সেটিও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, " বিএনপি যদি সমর্থনের দিক থেকে নিচের দিকে চলে যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় পার্টির সমর্থক সংখ্যা বা ভোটার সংখ্যা বাড়ে।"

মি: কাদের বলেন, "মধ্য থেকে শুরু করে যারা ডান দিকে ঝুঁকে আছে তারা সাধারণত বিএনপিকে লিডারশীপে নেয়। অথবা বিএনপি দুর্বল হয়ে গেলে জাতীয় পার্টিকে লিডারশীপে নেয়। জাতীয় পার্টি কোন কারণে দুর্বল হলে আমাদের ভোটগুলো বিএনপির দিকে যায়।"
২০০৮ সালের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হয়েছিল

জাতীয় পার্টির এ নেতা বলেন, গত ২৮ বছর ধরে দল ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে তাদের ভোট হয়তো কমেছে।

"হয়তো কিছু সমর্থক আমাদের কমে গেছে, এটা বাস্তবতা। ক্ষমতার বাইরে থাকলে যে কোন বড় রাজনৈতিক দলের অনেক সময় সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেয়া বা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও দুর্বল হতে হয়," বলেন মি: কাদের।

বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির ভোট একত্রিত হবার কারণে উত্তরাঞ্চলেও বিভিন্ন জেলায় মহাজোট প্রার্থীদের বিজয় শুধু নিশ্চিতই হয়নি অনেক সহজও হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মি: এরশাদের জাতীয় পার্টি এখন নির্বাচনে ব্যালেন্সিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক যে দলের দিকে যাবে তারা নির্বাচনে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

এজন্যই মহাজোটে জাতীয় পার্টির কদর রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন আহমদ।

Other News