এবার আ’লীগ কি তরুণদের সমর্থন পাবে? সংবাদ News

এবার আ’লীগ কি তরুণদের সমর্থন পাবে?

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোটার অর্থাৎ তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। তাই ক্ষমতার পালাবদলে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আর এ কারণেই তরুণদের কাছ থেকে তাদের স্বপ্নের কথা, স্বপ্নপূরণের কথা ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা শুনলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে দেশের উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার কথাও তরুণদের জানান প্রধানমন্ত্রী। উত্তর দেন তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের।

তরুণদের সঙ্গে সরাসরি এই কথোপকথনের জন্যই শুক্রবার বিকালে আয়োজন করা হয়েছিল ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের।

এতে উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সারা দেশ থেকে মনোনীত হয়ে আসা ১৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় তরুণরা অথবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কোন কোন সমস্যার সমাধান করবে তারা- এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এবারের লেটস টক-এ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘প্রথমবারের মতো’ প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। তরুণদেরও বেশ কিছু প্রশ্ন করেন তিনি। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে প্রধানমন্ত্রী তার কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে ঘটে যাওয়া অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে।

এদিকে বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে বড় যে আন্দোলনগুলো হয়েছে সেগুলো প্রায় সবই তরুণদের আন্দোলন।

সবচাইতে আলোচিত কোটা আন্দোলন বা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যেভাবে সামাল দেয়া হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যে পাঁচটি বিষয় সবচাইতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো তার অন্যতম হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ইস্যুও তরুণদের আকর্ষণ করতে প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

বলা হয় সেবার তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের জয়ে ভূমিকা রেখেছিল।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরাতো পৃথিবীটা তাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছি। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তে বিচরণ করতে চায় সেখানেই তারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এই সুবিধাগুলো তাদেরকে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি। এগুলো সবকিছু হচ্ছে তরুণদের জন্য।

কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা বুঝতে শেখার পর গত দশ বছর আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলকে ক্ষমতায় দেখেনি।

অন্য কোনা দলকে যাচাই করার কোনো সুযোগ তারা পায়নি। কাছাকাছি সময়ে তাদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল কোটা সংস্কার ও সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন।

এ দুটি আন্দোলনই একটি পর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল।

দুটি আন্দোলনের ক্ষেত্রেই সরকারের ভূমিকা সেসময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখছে না বলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

এই আন্দোলন দুটি তারা সঠিকভাবে সামাল দেননি বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ।

তিনি বলেন, এর প্রভাব ভোটে হয়ত পড়তে পারে। কারণ দুটো আন্দোলনই নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই হয়েছে। আরও সেনসিটিভভাবে এটা সামাল দেয়া যেতো। তা করা হয়নি বা করতে পারেনি সরকার। তরুণদের কিছু ইনসেনসিটিভ কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেটার কিছু প্রভাবতো পড়বেই।

তবে তিনি মনে করছেন, বর্তমান সরকার একটা জায়গায় তরুণদের ওপর অনেক নজর দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তারা করার চেষ্টা করেছে সেখানে তরুণদের মাথায় রেখে অনেক কাজ হয়েছে। সেটিও নিশ্চয়ই কোনো প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারদের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। তাই তরুণদের প্রধান বিষয় চাকরি। এছাড়া প্রতিবছর লাখ লাখ সনদধারীরা চাকরির মাঠে প্রবেশ করছে। আর এ বিষয়টি বেশিরভাগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়েছেন নিশিতা মিতু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমার বয়সী আরও অনেকের মতোই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করছি।

তার কাছে এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটা ভালো চাকরি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চাকরি বলেন, নিরাপদ সড়ক বলেন, বা কোটা বলেন, আমরা তো তরুণদের বিরুদ্ধে যাইনি। আমরা তরুণদের সঙ্গেই ছিলাম।

কিন্তু তরুণ ভোটাররা শেষমেশ কার পক্ষ নেবেন সেটি হয়ত সামনে বোঝা যাবে। তবে তাদের ওপর একটা বিশাল পরিমাণ ভোট নির্ভর করছে আর সেটি ভোটের ফলাফল বদলে দেয়ারও ক্ষমতা রাখে। সূত্র: বিবিসি।

Other News

'তখন শুধু মনে হয়েছে ওকে ধরতে হবে আর পুলিশে দিতে হবে': অন্তরা রহমান, যিনি ঢাকার রাস্তায় ধাওয়া করে ছিনতাইকারী ধরে পুলিশে দিয়েছেন

'তখন শুধু মনে হয়েছে ওকে ধরতে হবে আর পুলিশে দিতে হবে': অন্তরা রহমান, যিনি ঢাকার রাস্তায় ধাওয়া করে ছিনতাইকারী ধরে পুলিশে দিয়েছেন...

'তখন শুধু মনে হয়েছে ওকে ধরতে হবে আর পুলিশে দিতে হবে': অন্তরা রহমান, যিনি ঢাকার রাস্তায় ধাওয়া করে ছিনতাইকারী ধরে পুলিশে দিয়েছেন...