নতুন আলোচনায় তাজিনের দেওয়া পুরনো স্ট্যাটাস: যা শোকার্ত করে তুলেছে তার ভক্ত অনুরাগীসহ ঘনিষ্ঠজনদের বিনোদন News

নতুন আলোচনায় তাজিনের দেওয়া পুরনো স্ট্যাটাস: যা শোকার্ত করে তুলেছে তার ভক্ত অনুরাগীসহ ঘনিষ্ঠজনদের

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মৃত্যুতে শোকার্ত তারকা সমাজসহ সাধারণ মানুষও। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদের কবরে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে।

এর আগে জোহর নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সকাল থেকে তাজিন আহমেদের মরদেহ উত্তরার আনন্দবাড়ি শুটিং হাউসে রাখা হয়েছিল। এখানে ছোট পর্দার এই তারকার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু আর শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে আজ সকালে শেষবারের মতো মা’কে দেখাতে তাজিনের মরদেহ নেওয়া হয় কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকে। অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাফটকে নেওয়া হয়। এসময় তার পরিবারের লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তাজিন আহমেদের মৃত্যুর পর তার ফেসবুকে দেওয়া একটি পুরাতন স্ট্যাটাস আরও বেশি শোকার্ত করে তুলেছে তার ভক্ত অনুরাগীসহ ঘনিষ্ঠজনদের। গত ২৯ এপ্রিল গভীর রাত ৩টা ১২ মিনিটে তাজিন লিখেছিলেন, ‘দেহের মৃত্যু একবার মনের মৃত্যু বহুবার।’

এ স্ট্যাটাসটি নতুন করে টনক নাড়ছে তারকাদের মনে। অনেকেই তার ওই পোস্টের নিচে কমেন্ট করছেন তার মৃত্যুর পর।

কমেন্টে শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি লিখেছেন, ‘তোমার কথাটা যে একেবারেই সত্যি হয়ে গেল আপু! বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে!’

আরজুমান্দ আরা বকুল লিখেছেন, ‘এই সত্য কে প্রতিষ্ঠা করে গেলে।’

আফরোজা লিজা লিখেছেন, ‘এই পৃথিবী তোমাকে আর কষ্ট দিতে পারবে না আপু। প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে যে মাকে দেখতে, আজ সেই মায়ের আঁচলেই যেন তোমার আত্মা শান্তি পায়। ভালো থেকো ওপারে।’

সুমনা সোমা লিখেছেন, ‘এর মানে তাজিন আপুর মনের মৃত্যু আগেই হয়েছে।’

আফরোজা চৈতি লিখেছেন, ‘চলেই গেলেন আপা! মৃত্যু কি আপনার মনের সাথে সাথে দেহটাকেও নিয়ে গেল! অনেক ভালো থাকুন ওপারে।’

আজাদ নাসরিন লিখেছেন, ‘আপাটার কী যেন অনেক কষ্ট ছিল। চলে গিয়ে কি ভালোই হলো? যেখানেই থাকুন আপু, অনেক ভালো থাকুন। আমীন।’ কা

জী ইলিয়াস কল্লোল লিখেছেন, ‘আজ তুমি দেহহীন। তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি।’

সৈয়দ আপন আহসান লিখেছেন, ‘তোমার মৃত্যু, তোমার অমলিন হাসিকে আমাদের মন থেকে মুছে দিতে পারবে না। আমাদের মনের যেন মৃত্যু না হয় ঈশ্বর।’

ফারহানা আক্তার স্বপ্না লিখেছেন, ‘প্রাণ খোলা এই হাসির আড়ালে ছিল পাহাড় সমান কষ্ট তাও হেসেই গেছেন।’

 

৫০০ টাকার জন্য মায়ের খাবার পাঠাতে পারতেন না তাজিন

চেক ডিজঅনার মামলায় দুই বছর ধরে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন প্রয়াত তাজিন আহমেদের মা দিলারা জলি। আর সেই মাকে অর্থের অভাবে নিয়মিত দেখতে যেতে পারতেন না এক সময়কার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

তাজিনের ‍মৃত্যুর পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানান নির্মাতা মাহাদী হাসান সোমেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে জানান,পাঁচশ টাকার অভাবে মায়ের জন্য খাবার কিনেও পাঠাতে পারতেন না তাজিন।
সোমেন তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘তাজিন আহমেদ। গত ৩টা বছর ধরে কি অমানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছি তা অব্যক্ত। আজ কত কত মানুষ ঐ মৃত মুখটা দেখতে আসছেন, কিন্তু জীবিত অবস্থায় যদি একবারের জন্যও এই মানুষগুলো পাশে দাঁড়াতো তাহলে অন্তত এভাবে নীরবে চলে যেতে হত না। পরপর ২টা চাকরি চলে গেল, কেউ ঐভাবে কাজেও ডাকতো না, মাঝে মাঝে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার জন্য কত জনের কাছে হাত পেতেছেন, এই আমি তার সাক্ষী।
৫০০ টাকা হলে মায়ের জন্য কারাগারে খাবার পাঠানো যায়, সেই টাকাটাও থাকত না মাঝে মাঝে এই আমি তার সাক্ষী। আমাকে পাঠানো সর্বশেষ মেসেজ এখন কী করবা? আমি বুঝে উঠতে পারিনি। যেতে যেতেই অভিমানে বিদায়...’



অন্যদিকে নির্মাতা অনিমেষ অাইচও তার একটি স্ট্যাটাসে তাজিনের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরেন। অনিমেষ আইচ লিখেন, ‘মরে গেলেই আহা...উহু! বেঁচে থাকতে কেউ পুছে না। ঈদ নাটক মানেই সব টাকা দিয়ে একটা মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, অপূর্ব এবং স্টার কাস্ট কিনতে হবে। মরে গিয়ে বেঁচে গেলেন তাজিন।
একজন শিল্পির অপমৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। সামনে অকালমৃত্যুর দীর্ঘ সারি।’

তাজিনের কাছের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর দুয়েক ধরে অর্থনৈতিকভাবে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে ছিলেন তিনি। না ছিল চাকরি, না ছিল শুটিং। ধারণা করা হচ্ছে আর্থিক সঙ্কট, জেলবন্দী মা, স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব, হাতে কাজ না থাকা ইস্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তাজিন।

২২ মে, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট হাসপাতালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাজিন। এরপর থেকেই এই অভিনেত্রীর জীবনের অর্থনৈতিক টানাপড়নের বিষয়টি তার আশপাশে থাকা পরিচিত মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন পোস্টে প্রকাশ পায়।

মাত্র ৪৩ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে চিরতরে চলে গেলেন অমলিন হাসিমাখা অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। নব্বই দশকের টেলিভিশন নাটকগুলোতে দাপিয়ে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর ২০১০ সালের পর থেকে টেলিভিশনে নাটকে তার উপস্থিতি অনেকখানি কমতে শুরু করে।

Other News