খুশকিতে নাজেহাল দশা? নিজেই বানিয়ে ফেলুন অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ হেয়ারমাস্ক! স্বাস্থ্য News

খুশকিতে নাজেহাল দশা? নিজেই বানিয়ে ফেলুন অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ হেয়ারমাস্ক!

 

আমার পছন্দের জামাগুলোর রং হচ্ছে কালো, অথবা যেকোন ডীপ কালার। এখন আমি কালো রং এর সুন্দর একটা জামা পরে যদি সেজেগুজে বাসার বাইরে বের হই, আর আমার জামাটায় যদি আমার মাথার ধবধবে সাদা খুশকি দেখা যায়, এর চেয়ে বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি কি আর আছে? খুশকি শুধু কিন্তু এক বিব্রতকর পরিস্থিতির নাম নয়, এটা চুল পড়ার ও অন্যতম কারণ।

মাথার রোমকূপে ময়লা জমে এবং ফাঙ্গাসের আক্রমণের জন্যই মূলত মাথায় খুশকির আবির্ভাব ঘটে। তাছাড়াও নিয়মমত শ্যাম্পু না করলে, দেহে ভিটামিন বি এবং জিংকের ঘাটতি থাকলে, গোসলের পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি থাকলে ও খুশকি হতে পারে। খুশকি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে আমরা চট করে বিজ্ঞাপন দেখে লাফাতে লাফাতে মার্কেটে গিয়ে অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু কিনে ঝটপট মাথায় শ্যাম্পু করে নিজেকে নায়িকাদের মত ভেবে আয়নার সামনে দাঁত বের করে হাসি ঠিকই, কিন্তু লঙ রানে কি হয় বলেন তো?

 

আমরা বিছানার চাদর, বালিশের কভার, চিরুনি, তোয়ালে কিছুই নিয়মিত ধুই না আর কিছুদিন পর আবার ও এই পরিচ্ছন্নতার অভাবে খুশকি ফিরে আসে বলে হায়হুতাশ করতে বসে পড়ি। আর এসব অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুগুলোর হার্শ কেমিক্যাল নিয়মিত চুলে ব্যবহার করে স্ক্যাল্প থেকে খুশকি গেলেও চুলের অবস্থা যে বারোটা বাজে সেইটা কি অস্বীকার করা সম্ভব? চুল ড্রাই আর রাফ হয়ে যায়! অতঃপর আমরা আবার ও মার্কেটে ম্যাজিকাল প্রোডাক্ট খুঁজতে দৌড় লাগাই!

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে খুশকি সমাধানের উপায়?

 

উপায় কিন্তু আপনার রান্নাঘরে, আপনার বাড়ির বাগানে, আর আপনার বাসার পাশের কাঁচাবাজারেই আছে! কি অবাক হচ্ছেন? অত্যন্ত সহলভ্য আর সাশ্রয়ী মূল্যের জিনিস দিয়েই কিন্তু খুশকি নির্মূল করা সম্ভব। চলুন তাহলে অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ হেয়ার মাস্ক গুলো আমরা দেখে নেই।

 

টক দই, লেবু আর মধুর মাস্ক


আধ বাটি টক দই, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস আর ১ টেবিল চামচ মধু ভালো করে মিক্স করে নিন। এবার পুরো মাথার চুল ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে ব্রাশের সাহায্যে পুরো মাথায় লাগিয়ে নিন। টক দই চুলকে ডীপ কন্ডিশনিং করে, স্ক্যাল্পের ইচিনেস কমায়, স্ক্যাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক করে। লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা খুশকি তাড়াতে সাহায্য করে। আর মধুর গুণের কথা কে না জানে! মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর ন্যাচারাল কন্ডিশনিং প্রোপার্টি যা হেয়ার ফলিকল গুলোকে মসৃণ করে তোলে।

 

গ্রিন টি, হোয়াইট ভিনেগার, কোকোনাট অয়েল


দেড় কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে একটা গ্রিন টি ব্যাগ দিয়ে ১০ মিনিটের জন্য পাত্রটি ঢেকে রেখে দিন। এবার টি ব্যাগটা ফেলে দিয়ে ঐটা ঠাণ্ডা হবার পর তাতে চার চা চামচ হোয়াইট ভিনেগার আর ১ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল মিক্স করে পুরো মাথার স্ক্যাল্পে ভাল করে লাগিয়ে নিন। এবার শাওয়ার ক্যাপ পড়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। গ্রিন টি তে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। হোয়াইট ভিনেগার স্ক্যাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আর কোকোনাট অয়েল চুলকে ডীপলি কন্ডিশন করে চুলকে শাইনি আর বাউন্সি করে তোলে।

মেথি, কোকোনাট অয়েল, অলিভ অয়েল


২ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল আর ২ চা চামচ মেথি গুঁড়ো একটা স্টিলের বাটিতে নিয়ে চুলার উপর ১০ সেকেন্ড ধরে হালকা গরম করে নিন। এবার পুরো মাথার স্ক্যাল্পে বিলি কেটে কেটে লাগিয়ে নিন। একটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে পুরো মাথায় মুড়িয়ে নিন। এটাকে বলে স্টিম নেয়া। স্ক্যাল্পের ভিতরে তেল তা ভালোভাবে প্রবেশ করে ইফেক্টিভলি কাজ করবে। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন। মেথিতে আছে প্রোটিন, ভিটিন, নিকোটিনিক এসিড আর লেসিথিন যা খুশকিসহ যাবতীয় হেয়ার প্রবলেম দূর করে চুলকে করে তুলবে সুন্দর আর প্রাণবন্ত।

 

নিমপাতা, নারকেল তেল


৩ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সাথে ৮-১০টা নিমপাতা বাটা মিক্স করে পুরো মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন। নিমপাতার ঔষধি গুণের কথা কে না জানে? খুশকিসহ যাবতীয় চর্মরোগ সারাতে নিমপাতার জুড়ি নেই। আর নারকেল তেল স্ক্যাল্পের গভীরে প্রবেশ করে চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায়।

 

অলিভ অয়েল, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, কোকোনাট অয়েল


২ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল আর ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিক্স করে পুরো মাথার স্ক্যাল্পসহ আগাগোড়া পুরো মাথায় দিয়ে নিন। একটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে পুরো মাথায় মুড়িয়ে নিন। এটাকে বলে স্টিম নেয়া। স্ক্যাল্পের ভিতরে তেল তা ভালোভাবে প্রবেশ করে ইফেক্টিভলি কাজ করবে। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।

 

আপনার হাতের কাছে যে উপাদানগুলো অ্যাভেইলেবল থাকে সেগুলোই নিয়মিত ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দুইদিন এই মাস্ক গুলোর যে কোন টা ব্যবহার করুন। পাশাপাশি নিয়মিত বিছানার চাদর, বালিশের কভার, চিরুনি, জামাকাপড়, তোয়ালে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অন্যের চিরুনি কখনোই ব্যবহার করবেন না। এসব ঘরোয়া প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করার পর ও যদি মাস দুয়েকের ভিতরে খুশকি দূর না হয়, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তবে মনে রাখবেন, ঝলমলে খুশকিমুক্ত চুল কিন্তু এক রাতের ভিতরে পাওয়া সম্ভব না, বিশেষ করে আপনি যখন সম্পূর্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে খুশকি দূর করবেন, তখন ধৈর্য ধরে রেগুলার ব্যাসিসে আপনাকে চেষ্টা করতে হবে।

 

Other News