রোহিঙ্গারাও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল মতামত News

 রোহিঙ্গারাও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল

আমরা শুধু শুনে এসেছি মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থীদের শুধুমাত্র ভারতই আশ্রয় দিয়েছিল। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বার্মাতেও বাংলাদেশের শরনার্থীরা আশ্রয় নিয়েছিল, আর তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিল মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশেই।


১৯৭১ সালের ১৮ই জুন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বার্মার জনগন আর সরকারকে ধন্যবাদ জানান। (সুত্রঃ মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩)


অবশ্য বার্মার মুসলিম জনগনের বদান্যতার এই ইতিহাসকে মুছে দেয়া হয়েছে এবং ভারতকে শরনার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পুর্ণ কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে। সেকারণেই রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়ায় আমাদের চেতনা শিবিরে কোন গ্লানি হয়নি। নিশ্চয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে বয়স্করা এই ঘটনা জানে। তারা আমাদের কী বলেছে? আমাদের নিয়ে কী ভেবেছে ভাবুন একবার। একবারও কি কেউ বলেনি, "অকৃতজ্ঞ!!"


সরকারকে আহ্বান জানাই; গণহত্যার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে সীমান্ত খুলে দিন। শরনার্থী শিবির বানান। বাংলাদেশের আপামর মানুষ এটাই চায়। মানুষের হৃদয়ের কথা শুনুন।
বাংলাদেশের স্যেকুলারেরা পৃথিবীর সবচাইতে নিগৃহীত এই জনগোষ্ঠীকে শরণার্থী মর্যাদায় আশ্রয় দিতে নারাজ। এই স্যেকুলারপন্থীরা মানবতার শত্রু। ঠিক কীভাবে এবং কেন এই মানবতাবিরোধীরা নিজেদের স্যেকুলার পরিচয় দেয়া শুরু করলো এটা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।


১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ জেনোসাইডের ভিকটিম হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে বেচেছে। বাংলাদেশের অবিলম্বে রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা জন গোষ্ঠীকে মায়ানমারের রাষ্ট্র স্পন্সরড গণহত্যার হাত থেকে বাচাতে সীমান্ত খুলে দেয়া উচিৎ।


Bangladesh had gone through a horrible experience of being a victim of genocide during its war of liberation in 1971 and tens of thousands of its people then got refuge in neighboring India. Bangladesh should open its border immediately to help the stateless Rohingya people who are victims of genocide in Myanmar.

Pinaki Bhattacharya

Other News