যদি হাতে থাকে কলম নামক অস্ত্র, আপনার শিশু হবে না পথভ্রষ্ট! অর্থনীতি News

যদি হাতে থাকে কলম নামক অস্ত্র, আপনার শিশু হবে না পথভ্রষ্ট!

কলমের জাদু যে শিখেছে, তার হাত ধরেই পৃথিবীতে আসবে বদল।

একটি কলম আর কাগজ, কিছু শব্দ, বাক্য; ঠিকভাবে লিখতে পারলে পুরো বিশ্ব কুর্নিশ করবে তাকে।

আপনার শিশুটিও হোক তেমনই একজন।

লেখালেখির ক্ষেত্রে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা লাগে ঠিকই, তবে আপনার সাহায্য এবং পরিচর্যাও হতে পারে দারুণ সহায়ক। আর সেজন্যে ভাবতে পারেন এখানে বর্ণিত উপায়গুলো নিয়ে-


(১)বাড়িটাই হয়ে উঠুক শব্দরাজ্য। অনুভূতি প্রকাশের অনুপম আশ্রয়! লিখতে চাইলে অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই। তাই জেমসের সেই গানটার মত চুল খুলে পথে নামুন! সাথে অবশ্যই আপনার শিশুকে সাথে নিন। তাকে রঙ চেনান, স্পর্শ বোঝান, মাতিয়ে তুলুন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সব রকম অনুভূতিতে। ঘরে ফিরে এসে টাটকা টাটকা অভিজ্ঞতা লিখে ফেলতে বলুন। তাজা কলম থেকে সৃষ্ট শিশুর সৃজন শব্দের চেয়ে সুন্দর সাহিত্য আর কী হতে পারে!


(২)আপনি নিজেও লিখতে পারেন। আপনাকে লিখতে দেখলে শিশুরা উৎসাহিত হবে। তাদের কাছে আপনিই আদর্শ, আপনিই তাদের সেরা শিক্ষক। আপনাকে যদি কখনও না লিখতে দেখে, তাহলে তারা ভাবতে পারে যে, লেখালেখি শুধুমাত্র স্কুলের জন্যেই প্রযোজ্য। এই ভুল ধারণাটি মনে গেড়ে থাকলে সে হয়তো বা লেখালেখিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে


(৩)
কী লিখবে অথবা লিখছে আপনার শিশু? ভাবনার চোরাডুবিতে পথ হারিয়ে ফেলছে না তো? শিশু মনে কত রকম চিন্তাই তো আসে, সেগুলোকে লেখায় রুপান্তরিত করলে কী অসাধারণ একটা ব্যাপার হতে পারে ভেবে দেখেছেন? তারা কী বলতে চায়, কী ভাবছে, কী অনুভব করছে, এসবের পরিচর্যা করুন। বিভিন্ন থিম এবং আইডিয়া নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। এভাবেই প্রসারিত হবে তার মনের আকাশ।


(৪)
এবার তার জন্যে একটি সুন্দর লেখার জায়গা উপহার দেয়ার পালা। সম্ভব হলে ঘরের কোনায় একটি নীরব জায়গা বেছে দিন। সেই সাথে সাজিয়ে দিন দরকারী পণ্যে। যেমন, বিভিন্ন রঙের কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, টেবিল ল্যাম্প। ইনভেলপ, ডায়েরি, এবং অতি অবশ্যই একটি অভিধান।


(৫)জিজ্ঞেস করুন, “কী লিখলে নতুন?”। বলবেন না, “নতুন কিছু লিখছো না কেন?”। অর্থাৎ, তাকে উৎসাহ যোগান, কিন্তু কোনভাবেই চাপিয়ে দিবেন না। বিশেষ ভাবে নজর দিন তার বানান এবং ব্যাকরণের ওপর। তার লেখাকে প্রশংসা করুন। সবসময় লেখার মধ্যে থাকলে তার জন্যে মঙ্গল হবে। তবে তার মানে এই নয় যে শুধু গল্প-কবিতা লিখতে হবে। লিখতে পারে চিঠি, দেয়াল লিখন, এছাড়াও এমন টুকটাক ছোটখাটো লেখালেখি তাকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন। এই ইন্টারনেটের যুগে তাকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা না করাই ভালো। তাকে মানসম্পন্ন স্ট্যাটাস এবং টুইট করতে আগ্রহী করে তুলুন। এভাবেই সে ইন্টারনেট নামক নেশাটাকে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করতে পারে।

 

Other News