শ্বশুরবাড়ি অশান্তি বাঁধিয়ে এসে আমার বাড়িতে এক সেকেন্ডের জন্যেও জায়গা হবেনা তোমার লাইফ News

শ্বশুরবাড়ি অশান্তি বাঁধিয়ে এসে আমার বাড়িতে এক সেকেন্ডের জন্যেও জায়গা হবেনা তোমার

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে মেয়েরা নির্যাতিত হয় একথা সবাই জানি, কিন্তু বর্তমানে বউদের দ্বারাও যে শ্বশুরবাড়ির লোক নির্যাতিত হয় এ কথাও কিন্তু অসত্য নয়। যদিও এমন দজ্জাল বউয়ের সংখ্যা কম কিন্তু মারাত্মক। একটা মেয়ের লালিত স্বপ্ন যেমন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা গলা টিপে হত্যা করে তেমনি কিছু মেয়ে আছে যাদের দ্বারা শ্বশুরবাড়ির লোকদের স্বপ্ন হত্যা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন পরিস্থিতিতে বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুলের মিল হয় না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এক পক্ষ বেশ নীরিহ থাকে। বউ নীরিহ তো শ্বশুরবাড়ি অত্যাচারী আবার শ্বশুরবাড়ি নীরিহ তো বউ অত্যাচারী। তবে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কোন মেয়েই যে সুখি হয় না সেকথা ভাবা বোকামি। অনেক মেয়ে আছে যারা বিয়ের পর ভালোই আছে, তাদের স্বপ্নগুলো মরে যায় না বরং নতুন নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়।

বউরা শ্বশুরালয়টাকে নরক বানানোর প্রথম প্রশ্রয় পায় তার স্বামীর কাছে, দ্বিতীয় প্রশ্রয় পায় তার বাপের বাড়ির লোকদের থেকে। জামাইর ইমোশন নিয়ে খেলার একমাত্র ঢাল, "আমাকে বেশি কিছু বললে বাপের বাড়ি যাবো।" আর ওদিকে বাপতো আছেই, শ্বশুরালয়ে অশান্তি বাঁধানো মেয়েটাকে বিনা বিচারে দিনের পর দিন আশ্রয় দেবে। কোন ছেলে যদি তার পরিবারের সদস্যদের উপর করা বউয়ের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে বউয়ের বাপের বাড়ি যাবার হুমকির বদলে পালটা বলে, "যাও..বাপের বাড়ি গিয়ে ভালো মানুষ হবার শিক্ষাটা নিয়ে আসো।" আর কোন বাপ যদি সেই মেয়েটাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে "আয় মা আয়" বলে বুকে টেনে না নিয়ে পালটা , "শ্বশুরবাড়ি অশান্তি বাঁধিয়ে এসে আমার বাড়িতে এক সেকেন্ডের জন্যেও জায়গা হবেনা তোমার" বলে মুখের উপরে দরজা বন্ধ করে দিত, তবে এই সমাজে বউ রূপে ঢুকা কালনাগিনী গুলা সেকেন্ড টাইম শ্বশুরবাড়ির সুখের পরিবেশ নষ্ট করার দু:সাহস করতো না।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ি বউয়ের উপর নির্যাতন করার সুযোগ পায় পরিবার থেকে বলা "স্বামীর ঘরই মেয়ের আসল ঠিকানা, কামড়ে পড়ে থাকবি" উপদেশটার কারণে। তারা নানাভাবে বুঝিয়ে দেয় মরে যাবা তাও স্বামীর বাড়ির চৌকাঠ ডিঙিয়ে বাহিরে আসা যাবেনা৷ এসে লাভ হবে না, আমরা তোমাকে মানবো না, যে মেয়ে স্বামীর ঘর করতে পারেনা সে মেয়ের ঠাঁই হবেনা। যেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বউটার উপর অত্যাচার করে সেই লোকেরাও কিন্তু তার নিজ ঘরের মেয়েটাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে এই শিক্ষাই দেয় যেই শিক্ষা পেয়ে তাদের ঘরে নতুন বউটা এসেছে। আমরা সবাই জানি, ছেলের মা বাঘিনী কিন্তু একই মা যখন মেয়ের মায়ের ভূমিকা পালন করে তখন তিনি মেনি বিড়াল। অথচ বউয়ের প্রতি নির্যাতন করা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে যদি ছেলেটা প্রতিবাদী আচরণ করে এবং কষ্ট মেনে নিতে না পারা বউটা যখন নিরুপায় হয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে কড়া নাড়ে তখন বাপ যদি "বুকে আয় মা" বলে মেয়েটাকে আগলে ঘরে তুলে সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় যুগে যুগে চলে আসা বধূ নির্যাতন কমে আসবে। বিয়ের পর মেয়েদের আশ্রয়হীনতাই শ্বশুরবাড়ি বধূ নির্যাতনকে উস্কে দেয়।

নির্যাতক বউয়ের স্বামীদের ব্যাপারে আসি, যে মেয়ে আপনাকে হারানোর ভয় না করে আপনার জন্মদাতা, জন্মদাত্রী কে অন্যায়ভাবে অসম্মান করতে পারে, সেই মেয়েকে হারানোর এত ভয় কিসের? আপনি কি বিক্রি হয়ে গেছেন আপনার বউয়ের কাছে? যে সম্পর্কে দু'জন দু'জনকে হারানোর ভয় না থেকে এক তরফা ভয় থাকে সেই সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী নয়, মনিব আর চাকরের সম্পর্ক। মণিবের অন্যায় আচরণে চাকরেরো একদিন হুঁশ হয়, বেতনের টাকায় অন্য কোথাও মনিবের ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু আপনাদের মত বউ পাগল চাকরেরা সারাজীবন চাকরই থেকে যান। যেই চাকরকে বউ, বাচ্চাতো সম্মান দেয়ই না, সমাজের কোথাও সম্মান নেই। লোকে আঙুল দেখিয়ে বলে, "বাবা মায়ের কষ্টে বড় করা অপদার্থ একটা"
ছেলে মেয়ে বলে, "বাপকে বলে লাভ নাই, মায়ের কাছে চল।" আর বউ বলে, "তুমি কিছু বলবানা, চুপ থাকো"
কেবল নিজের জন্মদাতা-জন্মদাত্রী শত আঘাতের পরেও বলে, "আমার সোনা ছেলে।"

মেয়ের বাবা মাকে দুর্বল হলে চলবে না। "মেয়েদের সংসারই সব" এমন বাক্য না বলে বলা উচিত "তোমার ভালোথাকাই কাম্য, যদি ওই সংসার তোমাকে ভালো না রাখে তবে তুমি আমার বাড়িতে যেকোন সময় চলে আসতে পারো। সংসার করবে কিন্তু নিজেকে বাঁচিয়ে। আগে তুমি তারপর সংসার।" এক্ষেত্রে মেয়েদের মাথায় রাখা উচিত, "সংসার টেকানোর দায়িত্ব স্বামী স্ত্রী দু'জনের। যে স্বামী আমার নির্যাতন মেনে নেয় এমনকি নিজেও নির্যাতন করে সেই স্বামী দিয়ে আমি কি করব?" আপনার ভাবনার তীক্ষ্ণতাই আপনাকে সমাধান দেবে, হোক আপনি একা।

ক্ষুদ্র এই জীবনে কোন নির্যাতনই কাম্য নয়। সবাই মিলেমিশে থাকায় সুখ আছে। একবার থেকেই দেখুন...

Romana Akter - শুদ্ধবালিকা

Other News